শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন
২১ আগস্টের খালাস রায় কি এবার টিকবে?
অনলাইন ডেস্ক
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মামলায় খালাস পাওয়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামির বিরুদ্ধে করা রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে মঙ্গলবার, ২৭ মে।
সোমবার (২৬ মে) প্রধান বিচারপতি বিচারিক কার্যক্রমে না থাকায় আপিল বিভাগের নির্ধারিত বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। পরে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ নতুন দিন ধার্য করেন।
এর আগে, আলোচিত এই মামলায় ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সব আসামিকে খালাস দেন। রাষ্ট্রপক্ষ সেই রায়ের বিরুদ্ধে ১৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারান ২৪ জন। এই নৃশংস ঘটনার পর হত্যা এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তদন্তের পর সিআইডি অভিযোগপত্র দাখিল করে, যার ভিত্তিতে বিচার শুরু হয়। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে অধিকতর তদন্তের পর আসামির তালিকায় নতুন করে যুক্ত করা হয় বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। এতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজার পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের দেড় মাসের মধ্যেই, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথি হাইকোর্টে প্রেরিত হয়। এরপর ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর থেকে বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়।
তবে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের জেরে বেঞ্চ পুনর্গঠন হয় এবং বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চে পুনরায় শুনানি হয়। দীর্ঘ শুনানির পর গত ১ ডিসেম্বর সব আসামিকে খালাস দিয়ে আলোচিত রায় দেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে। সেই আপিলের শুনানি হবে ২৭ মে ।